CLOSE ADS
CLOSE ADS

Advertisement

ফুলবাড়ীয়ায় দুঃস্থদের চালে জনপ্রতিনিধি নেতাদের থাবা, রয়েছে মৃত ব্যক্তির নামও

প্রকাশিতঃ বুধবার, ২০ মে, ২০২০ | বার পড়া হয়েছে Last Updated 2020-05-20T11:56:33Z
বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় হতদরিদ্রদের তালিকা ৩০ হাজার ৩৪০ জন। সকলেই পাবেন ১০ টাকা কেজির ওএমএসের চাল

 

সোমবার (১৮ মে) থেকে দুস্থদের মধ্যে বিতরণও শুরু হয়েছে। হতদরিদ্রদের তালিকায় মৃত ব্যক্তি, রাজনৈতিকি নেতা, চাকরিজীবী, ডিলারদের ও জনপ্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে। রাজনীতি ও ভোটের হিসাব ও আত্মসাৎ করার জন্য তালিকা থেকে বাদ গেছেন অনেক হতদরিদ্র।

 

সরেজমিন অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, নাওগাঁও ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শাহিদা আক্তার (১৪৫৬), তাঁর বাবা আবেদ আলী (১৪৫৭), মা ফুলজান (১৪৫৫), ভাই আব্বাস আলী (১৪৬০) ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ছেলে শাহজাহানের (১৪৭০) নাম তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে ইউপি সদস্যকে দেখানো হয়েছে গৃহিণী আর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে দেখানো হয়েছে কৃষক হিসেবে। একই পরিবারের তানিয়া খাতুন (১৩৭০), আবদুল লতিফ (১৩৯৩), আবুল হোসেন (১৩৯২), আনোয়ারা বেগমসহ (১৩৮২) চারজনের নাম রয়েছে। নাম রয়েছে আজগর আলী (১৪১৩), ইয়াকুব আলী (১৪১৮), আয়েশা বেগম (১৪১৯), আসমা (১৪৮৩), রীনা আক্তারসহ (১৪৮৪) একই পরিবারের পাঁচজনের। সন্তোষপুর গ্রামের আবদুল জলিল (১৪১০), তাঁর ছেলে সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি ইব্রাহিম খলিল (১৪১২), পুত্রবধূ মাজেদার (১৪৭৬) নামও তালিকায় রয়েছে। ইব্রাহিম খলিলকে দেখানো হয়েছে কৃষক হিসেবে।

 

নাওগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ৬, ৭, ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ডিলার আব্দুছ ছালামের বড় ভাই ফয়েজ উদ্দিন (১৩১০), ছোট ভাই বিল্লাল হোসেন, (১৩২৫), ভাইয়ের স্ত্রী নুরজাহান (১৩১৩), ভাতিজা ফারুক (১৩১৪), ভগ্নিপতি চান মাহমুদ (১৩২২), ধর্ম মেয়ে মুর্শিদা (১৩৩৫), চাচা আবদুস সামাদ (১৩১৭), আবদুল হাকিমের (১৩২২) নামও রয়েছে হতদরিদ্রদের তালিকায়।

 

তালিকায় নাম থাকা কুশমাইল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আজগর আলী (১১২৮) ও সিরাজুল হক (১০৯৫) দুজনই মৃত। কুশমাইল ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল হকের ভাতিজা মৃত সিরাজুল ইসলামসহ আত্মীয়-স্বজনের নাম রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিনের স্ত্রী ফরিদা আক্তারসহ (১৪৫৭) বেশ কয়েকজন ধণাঢ্য ব্যক্তির নামও তালিকায় রয়েছে।

 

ওএসএমের ডিলার আব্দুছ ছালাম দাবি করেন, তালিকায় পরিবারের যাঁরা রয়েছেন তাঁরা গরীব, হতদরিদ্র। তাঁদের সবার আলাদা সংসার রয়েছে।

 

মহিলা ইউপি সদস্য শাহিদা আক্তার বলেন, ‘আমরা গরীব বলেই কার্ড নিয়েছি। সমস্যা কী? বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ছেলেকে কৃষক দেখানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সে তখন বাড়িতে কৃষিকাজ করত।

 

কুশমাইল ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল হক বলেন, ‘দরিদ্র তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম আছে কি না আমার জানা নেই।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ছিদ্দিক জানান, ওএমএস ও হতদরিদ্রদের তালিকায় জনপ্রতিনিধি, ধণাঢ্য, মৃত ব্যক্তিসহ একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নাম থাকার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

Comments
comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and Fulbaria Today does not endorse any of the readers’ comments.
  • ফুলবাড়ীয়ায় দুঃস্থদের চালে জনপ্রতিনিধি নেতাদের থাবা, রয়েছে মৃত ব্যক্তির নামও

Trending Now

Advertisement