সেদিন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘তোমরা কে আমাকে মারতে চাও, মারো’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে একটি পথসভা করেছিলেন। ওই পথসভায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু সংগ্রাম কমিটির নেতাকর...


জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে একটি পথসভা করেছিলেন। ওই পথসভায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু সংগ্রাম কমিটির নেতাকর্মীরা। তৎকালীন শম্ভুগঞ্জ এলাকার সংগ্রাম কমিটির নেতৃত্ব দিতেন, আব্দুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন, বিল্লাল হোসেন সরকার, তোফাজ্জাল হোসেন তোতা, রাজগঞ্জের জৈনউদ্দিন সরকার ও গফরগাঁওয়ের হারুন। তবে সংগ্রাম কমিটির তোফাজ্জল হোসেন তোতা ছাড়া কেউ জীবিত নেই।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তোফাজ্জল হোসেন তোতা বর্তমানে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

বঙ্গবন্ধুকে খুব কাছ থেকে দেখা তোফাজ্জল হোসেন তোতা বলেন, ১৯৬৯ সালের নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চট্টগ্রামে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে ও সহায়তা করতে চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন।

তখন শম্ভুগঞ্জ থেকেই আমরা জানতে পারলাম বঙ্গবন্ধু শম্ভুগঞ্জ হয়ে ঢাকায় ফিরবেন। তখনই সংগ্রাম কমিটির নেতা আব্দুর রহমান সিদ্ধান্ত নেন, যেভাবেই হোক বঙ্গবন্ধুর সাথে তিনি দেখা করবেন। পরে বঙ্গবন্ধুর ঢাকায় ফেরার পথে শম্ভুগঞ্জ রেলস্টেশনে আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে ট্রেন থামিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বেবিট্যাক্সিতে শম্ভুগঞ্জের চাল মহালে নিয়ে যান নেতাকর্মীরা। সেখানে চারটি কাঠের তৈরি চৌকি রেখে ও কয়েকটি চেয়ার রেখে পথসভা করেন বঙ্গবন্ধু।

তিনি বলেন, ওই পথসভায় বঙ্গবন্ধু একাই বক্তব্য রাখেন। পথসভা শেষে আবারও বেবিট্যাক্সিতে শম্ভুগঞ্জ রেলস্টেশনে এসে বঙ্গবন্ধুকে ট্রেনে তুলে দেয়ার পর বাবর আলী মিয়া, আনির উদ্দিন মন্ডলের ছেলে আব্দুল হাই, হরমুজ আলী মন্ডলের ছেলে আব্দুল জব্বার বঙ্গবন্ধুকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকে।
তখন বঙ্গবন্ধু ট্রেনের গেটে দাঁড়িয়ে দুই হাত তুলে বলেন, ‘তোমরা কে আমাকে মারতে চাও, মারো।‘

এ কথা বলে বুক পেতে দেন তিনি। আর সেটা শুনেই ওরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। ওই পথসভায় ২০০ থেকে ২৫০ জন উপস্থিত ছিলেন।

ওই পথসভায় উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম সরকার।

তিনি বলেন, শম্ভুগঞ্জেই বঙ্গবন্ধুকে প্রথম দেখি। তবে এটাই ছিল শেষ দেখা। ওই পথসভা শেষ হতেই সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নেমে আসে। তখনতো বিদ্যুৎ ছিল না। হ্যাচাং বাতি ব্যবহার করা হতো। অসাবধানতাবশত একটি হ্যাচাং বাতিতে আগুন ধরে যায়। তৎক্ষণাত বঙ্গবন্ধু নিজের পকেট থেকে রুমাল বের করে চাপ দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলেন। বলেন, ‘পরে যদি কোনো সময় হঠাৎ এভাবে আগুন লেগে যায়, তাহলে এভাবে চাপ দিবা। আর কোনো সমস্যা হবে না।’

সংগ্রাম কমিটির নেতা আব্দুর রহমান ২০১৭ সালে মারা গেছেন। তিনি ৪ মেয়ে ও দুই ছেলের বাবা ছিলেন। এক ছেলের নাম তানভির রহমান কায়সার। তিনি সজিব ওয়াজেদ জয় পরিষদের ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক।

এ বিষয়ে তানভির রহমান কায়সার বলেন, বাবা আমাদেরকে সব সময় বঙ্গবন্ধুর কথা বলতেন। তিনি আওয়ামী লীগের একজন ত্যাগী নেতা ছিলেন। এখন আমিও রাজনীতির সাথে জড়িত। তবে সবাই যখন বলে আমার বাবা বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে রাজনীতি করেছেন, তখন খুব ভালো লাগে।

Related

ময়মনসিংহ 7212200943802976290

সর্বশেষ খবর

    এক ক্লিকে বিভাগের খবর

    ফেসবুক


    item